কিশোর কুমার (১৯২৯ -১৯৮৭)
এস মাহবুব
 

মুম্বাইয়ের এক বয়োজ্যেষ্ঠ সংগীত পরিচালক তাঁদের সুরে গাইছেন না এমন অনুযোগের জবাবে কিশোর কুমার বলেছিলেন, আমার নাম কিশোর। অথচ তোমরা আমাকে বুড়ো ভেবে সেই অনুযায়ী সুর করো। তাই সুরগুলোও বুড়োটে মার্কা হয়ে যায়। এই সুরগুলো আমার নামের সঙ্গে যায় না। তাই তোমাদের সুরে গাই না।  একদিকে খাইকে পান বনারসওয়ালা র মতো গান গেয়েছেন, অন্যদিকে সত্যজিত রায়ের চারুলতা ছবিতে আমি চিনি গো চিনি তোমারে র মতো রবীন্দ্রসংগীত গেয়েছেন।


পঞ্চাশ থেকে আশির দশক পর্যন্ত গান গাওয়া ও অভিনয় ছাড়াও তিনি সংগীত রচনা করেছেন, সুর করেছেন, চলচ্চিত্র পরিচালনা ও প্রযোজনা করেছেন এবং তৈরি করেছেন চিত্রনাট্য। বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী এই শিল্পী ভারতের মধ্য প্রদেশে ১৯২৯ সালের ৪ আগস্ট এক বাঙালি পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর আসল নাম আভাস কুমার গাঙ্গুলী। বাবা কুঞ্জলাল গাঙ্গুলী ছিলেন উকিল, মা গৌরী দেবী ছিলেন ধনাঢ্য পরিবারের মেয়ে। একসময়ের বিখ্যাত বলিউড তারকা অশোক কুমার তাঁর বড় ভাই।



ঘড়ির কাঁটা অনুযায়ী সত্যজিৎ রায়, লতা মঙ্গেশকার, মোঃ রফি ও আশা ভোঁসলের সাথে

কিশোর কুমার তাঁর চলচ্চিত্রের ক্যারিয়ার নায়ক - গায়ক হিসেবে শুরু করেছিলেন। নায়ক হিসেবে মূলত কমেডী নির্ভর ছবিতে অভিনয় করেছেন। মধুবালার সাথে চালতি কা নাম গাড়ি ছবির  ইক লাড়কি ভিগি ভাগি সি গানটি একই সাথে রোমান্টিকতা ও সেসসুয়্যলিটির চমৎকার উদাহরণ হয়ে আছে। শচীন দেব বর্মণের সুরে সত্তর দশকে আরাধনা ছবির মাধ্যমে উত্থান ঘটে কিশোর কুমার -রাজেশ খান্না জুটির। মেরে সপনে কি রানি  গানটি এখনও প্রবলভাবে জনপ্রিয়। রাজেশ খান্নার পর অমিতাভ বচ্চনের কন্ঠেও প্রচুর জনপ্রিয় গান তিনি উপহার দিয়েছেন।



দেব আনন্দ, ইয়াশ চোপড়া ও রাহুল দেব বমর্ণের সাথে

কিশোর কুমারের গাওয়া উল্লেখযোগ্য বাংলা গানের মধ্যে - আমার স্বপ্ন যে, তোমার বাড়ির সামনে দিয়ে, এক পলকে একটু দেখা, কী আশায় বাঁধি খেলাঘর, এই তো জীবন, পৃথিবী বদলে গেছে, এ আমার গুরুদক্ষিণা, সেই রাতে রাত ছিল পূর্ণিমা ইত্যাদি অন্যতম। শ্রেষ্ঠ গায়ক হিসেবে আটবার ফিল্মফেয়ার অ্যাওয়ার্ড এবং চারবার বেঙ্গল ফিল্ম জার্নালিস্টস অ্যাসোসিয়েশন অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন। এ ছাড়া তিনি উনিশবার ফিল্মফেয়ার অ্যাওয়ার্ডের জন্য মনোনীত হন। ফিল্মফেয়ার অ্যাওয়ার্ড প্রাপ্ত গানগুলো হলো - রূপ তেরা মাস্তানা (আরাধনা), দিল এ্যায়সা কিসি নে (অমানুষ), খাইকে পান বনারসওয়ালা (ডন), হাযার রাহে মুখড়ে দেখে (থোড়ি সি বেওয়াফাই), পাগ গুঙরু বান্ধ (নমক হালাল), হমে অওর জিনে কি (আগার তুম না হোতে), মনজিলে আপনি জাগা (শরাবী) এবং সাগার কিনারে (সাগর)। কিশোর কুমার প্রথমে বিয়ে করেন রুমা গুহ ঠাকুরতাকে। এই ঘরের তাঁর সন্তান অমিত কুমারও একজন কন্ঠশিল্পী। ২য় বিয়ে করেন যোগিতাবালীকে। এই ঘর ভেঙে যাওয়ার পর ৩য় বিয়ে করেন লীনা চন্দ্র ভারকারকে। এরা প্রত্যেকেই অভিনয়ের সাথে জড়িত ছিলেন। অভিনেত্রী মধুবালার সাথে তাঁর সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল। কিন্তু মধুবালার মৃত্যুর কারণে সেই সম্পর্ক পরিণতি লাভ করতে পারেনি।



১ম স্ত্রী রুমা গুহ ঠাকুরতা ও ৩য় স্ত্রী লীনা চন্দ্র ভারকারের সাথে

১৯৮৭ সালের ১৩ অক্টোবর কিশোর কুমার হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন। তিনি বেঁচে থাকবেন অসংখ্য সংগীতপ্রেমীর কাছে তাঁর কর্মের মাধ্যমে। তাঁর মৃত্যুর পর রুনা লায়লা শ্রদ্ধাঞ্জলি নামক এ্যালবামে কিশোর কুমারের দশটি গান রিমেক করেছিলেন। গানগুলো শুনে দেখতে পারেন। ভাল লাগবে।


ইয়ে জীভান হ্যায় - রুনা লায়লা
কয়ি হমদম না রহা - রুনা লায়লা
কিসকা রাস্তা দেখে - রুনা লায়লা
চালতে চালতে - রুনা লায়লা
জিন্দেগী কা সাফার - রুনা লায়লা
তেরি দুনিয়া সে - রুনা লায়লা
তেরে বিনা জিন্দেগী সে - রুনা লায়লা
দুখি মান মেরে - রুনা লায়লা
মেরা জীভান কোরা কাঘায - রুনা লায়লা
মেরে নেয়না সাওন ভাদো - রুনা লায়লা

 
প্রাচ্যের আন্তর্জাল পত্রিকা অভিবাস www.japanbangladesh.com